সাম্প্রতিকতম অবস্থা (আগস্ট ২০২৫)
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে গত এক সপ্তাহে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র এক মিটারের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়েছেন, ফসল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।
রাজশাহীতে, একই সময়ে, পদ্মা নদীতে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ১৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে রাজশাহীর কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে—যেমন বিদ্যালয়ের মাঠ, বসতি এলাকা, চরখিদিরপুর সহ ।
অন্য প্রান্তে, চাঁপাইনবাবগঞ্জেও নদী বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলমগ্ন হওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হয়েছে; বন্যাকবলিত পরিবার হাজারাধিক ।
সামকাল পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গত এক সপ্তাহে পানি প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার (১.৫ মিটার) বৃদ্ধি পেয়েছে; যা বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান নির্দেশ করে ।
কারণ ও বিশ্লেষণ
Rajshahi Water Development Board–এর পরিসংখ্যান বলছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে রাজশাহীতে পদ্মার পানিতে ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২৪–২৫ জুনে ৯.৮৭ মিটার থেকে ১ জুলাইয়ের মধ্যে তা বেড়ে ১১.৩৮ মিটার পৌঁছায়; যদিও মাঝখানে কিছু ওঠানামাও হয়েছে ।
বন্যার সম্ভাবনা কমাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ, চরবাসী ও অবকাঠামোকে নজরদারি করছে ।
অন্তর্নিহিত কারণসমূহ
মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢল upstream থেকে পানি দ্রুত প্রবাহিত হওয়ায় পদ্মার জলস্তরে উত্থান হচ্ছে ।
একই সময়ে উল্লেখযোগ্য নদী প্রবাহ হ্রাসের দিকে বিজ্ঞানের দৃষ্টি। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে পদ্মার পানি পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যা নদীর প্রবাহ ও পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে—যার ফলে একদিকে প্লাবন, অন্যদিকে খরার ঝুঁকি দেখা দেয় ।
জলবায়ুর পরিবর্তন, ভাঙন ও নদী ব্যবস্থাপনার অভাব নদীর আচরণকে আর
ও অনিশ্চিত করে তুলেছে ।

0 Comments