তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে অবশেষে কাপ্তাই হ্রদে আবারও মাছ ধরা শুরু হয়েছে। ১ আগস্ট ভোর থেকে রাঙামাটির অন্যতম মাছের উৎস কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এতে করে মৎস্যজীবী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জেলেদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
প্রতিবছর প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করার জন্য কাপ্তাই হ্রদে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাস মাছ ধরা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হয়। এই সময়ে মাছ ডিম ছাড়ে ও বংশবৃদ্ধি করে, ফলে হ্রদের মৎস্যসম্পদ রক্ষা পায় এবং আগামী মৌসুমে উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার সময় সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ ছিল। এ বছর প্রজনন মৌসুমে হ্রদের পানি অনেকটাই ভালো অবস্থায় ছিল এবং প্রশাসনের কড়াকড়ি নজরদারিতে অবৈধ মাছ ধরাও তুলনামূলক কম হয়েছে।
১ আগস্ট মধ্যরাত থেকেই হ্রদে শত শত নৌকা ও ট্রলার নিয়ে জেলেরা মাছ ধরতে নামে। সকাল থেকেই রাঙামাটির ফিশারি ঘাট, বনরূপা বাজার, রিজার্ভ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় মাছের ব্যস্ততা দেখা যায়। বাজারে উঠেছে রুই, কাতলা, বোয়াল, ট্যাংরা, চিংড়ি, পাবদা, গুলশা ও কই মাছসহ বিভিন্ন জাতের হ্রদের দেশি মাছ।
রাঙামাটি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, এ বছর হ্রদে মাছের প্রজনন ভালো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাছের আকার ও সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, মাছ ধরার মৌসুমজুড়ে টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
মাছ ব্যবসায়ী ও জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় অসুবিধা হলেও এখন মাছ ধরার সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত। কেউ কেউ ধার-দেনা করে ট্রলার বা জাল ঠিক করেছে, অনেকে নতুন করে ব্যবসা শুরু করেছেন।
তিন মাস পর কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা শুরু হওয়ায় পুরো রাঙামাটি অঞ্চলে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জেলেদের মুখে হাসি, বাজারে ক্রেতার ভিড়, আর হ্রদের পাড়ে নতুন প্রাণের ছোঁয়া—সব মিলিয়ে কাপ্তাই হ্রদ যেন ফিরে পেয়েছে তার
চিরচেনা রূপ।

0 Comments