তারিখ: ৯ আগস্ট ২০২৫
স্থান: ঢাকা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্ণ হলো গতকাল ৮ আগস্ট। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক সংকট ও সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে সর্বদলীয় সমঝোতার ভিত্তিতে এই সরকার গঠিত হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি।
প্রথম বছরের কাজ ও উদ্যোগ
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজ শুরু করে—
অর্থনীতি: বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দেশীয় শিল্পখাতে সহায়তা দিতে করনীতিতে কিছু সংস্কার আনা হয়। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণপ্রাপ্তির ব্যবস্থা করা হয়।
কৃষি: কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে ভর্তুকি বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ এবং পণ্য সংরক্ষণের জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়।
শিক্ষা: সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়, সাথে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হয়।
দুর্নীতি দমন: সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল টেন্ডার ব্যবস্থা চালু হয় এবং কয়েকটি বড় দুর্নীতির মামলা তদন্তের আওতায় আনা হয়।
চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা
সরকারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে—
বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমানো যায়নি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন ও অবিশ্বাস এখনও কাটেনি।
ভবিষ্যতের লক্ষ্য
সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে নির্ধারিত সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। একইসাথে তারা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
দেশের জনগণ এখন তাকিয়ে আছে—দ্বিতীয় বছরে এই সরকার কতটা সফলভাবে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারে এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে।

0 Comments